রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন- ‘For every child that is born, it brings with it the hope that God is not yet disappointed with man’, অর্থাৎ, প্রতিটি শিশুর জন্ম এই প্রত্যাশা নিয়ে আসে যে সৃষ্টিকর্তা এখনো মানুষের উপর হতাশ হন নাই! আসলে প্রতিটি শিশুর জন্ম শুধু তার বাবা-মা র জন্যই নয় বরং সমগ্র মানবজাতির জন্যই আশীর্বাদ স্বরুপ। আমরা যদি আরো ক্ষুদ্র পরিসরে চিন্তা করি তাহলে দেখি একটি শিশুর জন্ম প্রতিটি বাবা-মা ও পরিবার এর জন্য অনাবিল আনন্দ নিয়ে আসে। তবে কখনো কখনো তা বিষাদের কারণ ও হতে পারে!

একটা সময় ছিল যখন শিশুর জন্মের পরই শুধু জানা যেত যে সে ছেলে না মেয়ে। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে আমরা এখনে জন্মের অনেক আগেই জানতে পারি গর্ভের শিশুটি ছেলে না মেয়ে। একই ভাবে শিশুর কোন জন্মগত শারীরিক ত্রুটি আছে কিনা তাও জানা যায়। এখন প্রায় সব গর্ভবতী মা ই গর্ভাবস্থায় অন্তত একবার আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষা করান, সেখানে অনেক সময় দেখা যায় বাচ্চার জন্মগত শারীরিক ত্রুটি আছে। আনন্দ তখন বিষাদে পরিণত হয়। বাবা-মা, পরিবার দিশেহারা বোধ করেন। কি করবেন, কোথায় যাবেন কিছুই বুঝতে পারেন না। এমন অবস্থায় আসলে কি করা উচিত?

১। আতঙ্কিত না হওয়াঃ যদি গর্ভাবস্থায় আপনি জানতে পারেন যে আপনার অনাগত বাচ্চার কোন শারীরিক ত্রুটি আছে তাহলে প্রথম যে কাজটি আপনাকে করতে হবে তা হচ্ছে – আতঙ্কিত বা হতাশাগ্রস্ত না হওয়া। কারণ গবেষনা বলছে- গর্ভাবস্থায় মা আতঙ্কিত বা হতাশাগ্রস্ত থাকলে তা অনাগত বাচ্চার শারীরিক এবং মানসিক বিকাশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তবে এক্ষেত্রে আতঙ্কিত ও হতাশাগ্রস্ত না হওয়ার প্রধান কারনটি হচ্ছে- চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে অগ্রগতির ফলে আপনি জন্মের আগেই শিশুর জন্মগত ত্রুটির কথা জানতে পারছেন সেই একই কারনে বেশির ভাগ জন্মগত ত্রুটির সঠিক ও সফল চিকিৎসা সম্ভব। তাই ভয় নয়, ধৈয্য ধারন করুন।

২। নিকটস্থ শিশু সার্জনের পরামর্শ নিনঃ একজন বিশেষজ্ঞ শিশু সার্জন ই এক্ষেত্রে আপনাকে সঠিক পরামর্শ দিতে পারবে। অনাগত সন্তানের যে শারীরিক ত্রুটি জানা গেছে তা কতটা জটিল, কখন, কিভাবে, কোথায় সঠিক চিকিৎসা নিতে পারবেন বা চিকিৎসার পর আপনার শিশু স্বাভাবিক জীবন জাপন করতে পারবে কিনা এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য অবশ্যই আপনি নিকটস্থ শিশু সার্জনের সাথে যোগাযোগ করবেন।

৩। প্রসব এর প্রস্তুতিঃ আপনি যেহেতু জানেন যে আপনার সন্তানের জন্মের পরপর ই চিকিৎসার দরকার হতে পারে তাই আপনাকে সন্তান প্রসবের আগে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে। স্বাভাবিক ভাবেই আপনি গর্ভকালীন সময়ে একজন বিশেষজ্ঞের তত্বাবধানে থাকবেন এবং তার সাথে পরামর্শ করে প্রসব পরিকল্পনা করতে হবে। যেখানে একজন বিশেষজ্ঞ শিশু সার্জন আছেন এবং যেখানে নবজাতক শিশুদের সার্জারি করার মতো ব্যবস্থা আছে সেখানে বা নিকটবর্তী কোন হাসপাতালে প্রসবের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিশু কে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়।

৪। পারিবারিক সহায়তাঃ এই অবস্থায় পরিবার কে অবশ্যই গর্ভবতী মা এর পাশে থাকতে হবে। তাকে সাহস দিতে হবে এবং অনুপ্রেরনা যোগাতে হবে। অনেকেই বাচ্চার জন্মগত ত্রুটির জন্য মা কে দায়ী করেন, যা একেবারেই ঠিক নয়। বাচ্চার জন্মগত ত্রুটির জন্য কখনোই মা এককভাবে দায়ী নয়।

গর্ভাবস্থায় বাচ্চা র জন্মগত ত্রুটি নির্নয় আমাদেরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সঠিক চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ করে দেই। তাই হতাশাগ্রস্ত না হয়ে আমাদের কে এই সুযোগের সঠিক ব্যবহার করতে হবে। তাহলেই শিশু স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে।